শিক্ষাসমস্যা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ: একটি পর্যালোচনা

Loading...
Thumbnail Image

Journal Title

Journal ISSN

Volume Title

Publisher

বাংলা বিভাগ,উত্তরা ইউনিভার্সিটি,বাংলাদেশ

Abstract

ভারতবর্ষের ইতিহাস, ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার প্রতি সমাজদৃষ্টির নিবিড় বিশ্লেষণ উপস্থাপিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাচিন্তা বিষয়ক প্রবন্ধগুলোতে। রবীন্দ্র মননে শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মনুষ্যত্বের সম্পূর্ণ উন্মোচন, ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের যোগ, মানুষের সঙ্গে বিশ্বপ্রকৃতির যোগ, চিন্তাশক্তি কল্পনাশক্তির মিলন, ভাষার সঙ্গে ভাবের যোগ, মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা, অর্থাৎ জীবনপ্রবাহের গতির সঙ্গে শিক্ষাকে এক অক্ষে রেখে শিক্ষামুখী জীবন নয়, জীবনমুখী শিক্ষা প্রদান করা। একই লক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভবিষ্যতের জন্য বিশ্বজাগতিক মহামিলন যজ্ঞের কেন্দ্র করে নির্মাণ করেছেন শান্তিনিকেতন ও বিশ্ব ভারতী। মিলনের এই মহাযজ্ঞের মঞ্চে তিনি বিদ্যাদানের কথা কমই বলেছেন, সারাজীবন বলে গেছেন শিক্ষার কথা। কেননা, বিদ্যা আর শিক্ষা দু'টোকে রবীন্দ্রনাথ সম্পূর্ণ আলাদা করে দেখেছেন। বিদ্যা আহরণের বস্তু, কিন্তু শিক্ষার আচরণের। অর্জিত বিদ্যার সঙ্গে মানসিক উৎকর্ষ ঘটানো শিক্ষার কাজ। কিন্তু আমাদের দেশীয় শিক্ষা প্রণালীতে চিত্তের গতিকে মূল্যায়ন না করে সনাতন পদ্ধতির ভেতরে আমদানি করা হয়েছে বিলেতি বিদ্যা। বিলেতি বিদ্যা ভারতবর্ষের সমাজ, সংস্কৃতি ও আলো বাতাসের সঙ্গে খাপ না খাওয়া সত্ত্বেও সভ্য হওয়ার বাসনায় বিদ্যার এই আমদানি। শিক্ষার এরূপ যান্ত্রিকতাকে রবীন্দ্রনাথ কখনো পছন্দ করতেন না। যান্ত্রিক শিক্ষায় প্রতিটি মানুষ কলে ছাঁটা বিদ্যা নিয়ে জীবনের অর্ধেক সময় পাঠ মুখস্ত করার মধ্যে দিয়ে পার করে দেয়। বিদ্যাদানের অভিনব কৌশল স্বরূপ আমদানি করা বিলেতি স্কুলের ধারণাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, শিক্ষা দানের কল। স্কুলের মাস্টার এই কলের একটা অংশ। বিদ্যা কলে উৎপন্ন হতে পারে বিদ্যার পণ্য কিন্তু চলনশীল মন ও প্রাণের যোগ না থাকায় বিদ্যার এই কলে শিক্ষা উৎপন্ন হয় না। তাই ইউরোপীয় বিদ্যালয়ের অবিকল নকল না করে আমাদের সমাজের সঙ্গে, জীবনের সঙ্গে, আমাদের দেশীয় শিক্ষাকে সংলগ্ন করে তুলেতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিলেতের বিদ্যালয়ের নজির একবারে এড়িয়ে যেতে হবে, কেননা বিলাতের ইতিহাস, বিলাতের সমাজের সাথে আমাদের সমাজ-ইতিহাসের তেমন কোনো মিল নেই। এজন্যই বিদ্যালয়ের এদেশীয় প্রতির পাটি কেমন করে আমাদের জীবনের সঙ্গে মিলেয়ে নেওয়া যায় তার একটি স্বচ্ছ পন্থা বের করতে হবে। শিক্ষাকে চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ না করে, গেইট দ্বারা রুদ্ধ না করে, দারোয়ান তারা পাহারা না বসিয়ে, সময় দ্বারা তাড়া না করে, শান্তি দ্বারা কর্তকিত না করে রবীন্দ্রনাথ শিক্ষাদানের জন্য গুরুগৃহ তপোবন প্রত্যাশ্যা করেছেন। আদর্শ বিদ্যালয় যদি স্থাপন করতে হয় তবে লোকালয় থেকে দূরে, নির্জনে, মুক্ত আকাশ ও উদার প্রান্তরে গাছপালার মধ্যেই তার ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে শুরু-শিষ্যের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে ছাত্ররা জানচর্চার মহামিলন ধজ্ঞের মধ্যে হয়ে উঠবে। কিন্তু আমাদের দেশের কলে ছাঁটা বিদ্যার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাস্টারমশাই হয়ে উঠে শুরু হতে পারেন না। এইসব মাস্টারমশাই হলেন শিক্ষার দোকানদার, তারা শিক্ষা নামের পথ্যকে বেতন গ্রহণের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করেন। এমতাবস্থায় বেতন-ভোগী দোকানী মাস্টারমশাই ছা চালিত বিদ্যালয় ইঞ্জিনে পরিনত নয়। তাতে বস্তু উৎপন্ন হতে পারে কিন্তু প্রাণ উৎপন্ন হন। তাই রবীন্দ্রনাথের মতে কোনো বহিরাগত নিয়ম, বিবি বা প্রব্যাদি নয় ভারতবর্ষের ইতিহাস, পরিবেশের সাথে সাম্যজন্য করে শিক্ষাদান করতে হবে। যেখানে নিভৃতে এপেস্যা হয়, যেখানে গোপনে ত্যাগ এবং সাধন করে শক্তিলাভ করা যায়, যেখানে অধ্যাপকেরা আনায় প্রবৃত্ত সেখানে ছাত্ররা সম্পূর্ণভাবে শিক্ষাকে প্রত্যক্ষ করে বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে মিলিত হতে পারে। শিক্ষাস প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ। একটি পর্যালোচনা' শীর্ষক প্রবয়ে রইীন্দ্রনায়ের শিক্ষাচিতার এই দিশের দিকটি উন্মোচনের চেষ্টা করা হয়েছে।

Description

Citation

Akter, Tasnim. (2017, January). "শিক্ষাসমস্যা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ: একটি পর্যালোচনা" (Rabindranath on Educational Issues: A Review). Lekhani: A Journal of Language, Literature and Culture, vol. 1, 1 Jan. 2017, pp. 89–95. Department of Bangla, Uttara Universit

Collections

Endorsement

Review

Supplemented By

Referenced By